মো: আজাদ, মহেশপুর, ঝিনাইদহ

প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০২৪, ১০:০৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ধ্বংসের দার প্রান্তে ইতিহাসের সাক্ষী অভিশপ্ত নীলকুঠি

ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য। কিন্তু এগুলো বেশির ভাগই অবহেলিত। ফলে কালের বিবর্তনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যগুলো। এমনই এক প্রচীন স্থাপত্য নীলকরদের স্মৃতি বিজড়িত নীলকুঠি। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার এসবিকে ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের কপোতাক্ষ নদের ধারে অযত্ন আর অবহেলায় ধ্বংসের দার প্রান্তে কালের নির্মম সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই নীলকুঠি।

ব্রিটিশ রাজত্বকালে ইংরেজরা এদেশে নীল চাষ করার জন্য যেসব কুঠি গড়ে তুলেছিলেন সেসব কুঠিবাড়িই নীলকুঠি নামে পরিচিত। নীলকুঠির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কপোতাক্ষ নদ। এ নদ দিয়েই নৌকায় করে আসতো ইংরেজরা। তারা ওই কুঠিতে থাকতো আর কৃষকদের ওপর অত্যাচার করতো। ১৮১১ সালে কোটচাঁদপুর দুতিয়ারকুঠি কুঠির মালিক মি.ব্রিজবেন মহেশপুরের খালিশপুরে কপোতাক্ষ নদের তীরে এ কুঠিটি স্থাপন করেন।

আম বাগানসহ ১১.২৪০০ একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত দক্ষিনমুখি ১২ কক্ষবিশিষ্ট এ দ্বিতল ভবনটির দৈর্ঘ ১২০ ফুট,প্রস্থ ৪০ ফুট,উচ্চতা ৩০ ফুট ও দেওয়াল ২০ ইঞ্চি পুরু। চুন, সুরকি ও পাকা ইট দিয়ে তৈরি এ ভবনটি। কুঠির নিচ তলায় ছিল নীল চাষের খাজনা আদায় ও নির্যাতন কক্ষ। দ্বিতীয় তলায় আদায়কারীরা রাতযাপন করতেন। জোরপূর্বক এলাকার কৃষকদের মাধ্যমে নীল চাষ করে পাঠানো হতো ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে। দিনের পর দিন ইংরেজ নীলকরদের অত্যাচারের মাত্রা বাড়াতে থাকে। যারা নীলচাষ করতেন না তাদের এ কুঠিতে এনে তাদের উপর চালানো হতো নির্মম নির্যাতন। এমনকি তাদের মাথায় কাঁদা দিয়ে নীলের বীজ রোপন করে চারা গজানো হতো। গ্রাম থেকে নারীদের ধরে এনে রাখা হতো কুঠির কক্ষগুলোয়। ১৮৬০ সালে এ অঞ্চলে নির্যাতিত কৃষকরা নীল বিদ্রোহ শুরু করলে অন্যান্য নীলকুঠির মতো এ নীলকুঠিটিও রেখে চলে যান নীলকররা। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় জমিদাররা এটি তাদের কাছারি হিসেবে ব্যবহার করতে থাকেন। ১৮১০-১৮৫৮ সাল পযন্ত এটি ছিল কৃষক নির্যাতন কেন্দ্র। ১৮৬৫ সালে নীল বিদ্রোহ সংগঠিত হলে অন্যান্য নীলকুঠির মত এ নীলকুঠিটিও ইংরেজরা রেখে চলে যান।
পরবর্তীতে জমিদাররা এটি তাদের কাছারি হিসেবে ব্যবহার করতে থাকে। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির সময় তৎকালীন নীলকুঠির মালিক জমিদারও জায়গাটি ছেড়ে চলে যান। বর্তমানে ভবনটি জরাজীর্ণ। সংস্কারের অভাবে আজ ধ্বংসের দাঁরপ্রান্তে অবস্থান করছে।

স্থানীয়দের দাবী কুঠিবাড়িটি এলাকার মানুষের উপর অত্যাচার ও নির্যাতনের সাক্ষ্য দিচ্ছে, ফলে এটি এখন ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করছে। তাই এটি সংরক্ষণ করার দাবি জানান তারা। ২০১৮-১৯ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশাফুর রহমান এখানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ইকো পার্ক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটাও আলোর মুখ দেখিনি। ১৮১০-১৮৫৮ সাল পর্যন্ত নীলকররা নীল চাষ পরিচালনা করেন।

মন্তব্য করুন