সিলেট ব্যুরো

প্রকাশিত: ৬ জুন, ২০২৪, ০৫:২৪ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে

ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

সিলেটে উন্নতি হতে শুরু করেছে বন্যা পরিস্থিতি। গেল ২৪ ঘণ্টায় তুলনামূলক কম বৃষ্টি হওয়ায় এবং সুরমা ও কুশিয়ারার পানি ধীরে ধীরে কমতে থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে। উপজেলাগুলোর আশ্রয় কেন্দ্র থেকে আস্তে আস্তে ঘরে ফিরছেন বানবাসী। সিলেট মহানগরী থেকেও নামছে পানি। কমছে জলাবদ্ধতা। তবে এখনও অনেক জায়গায় পানিবন্দী হয়ে আছেন অনেকে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট মহানগর ও পুরো জেলা মিলিয়ে বর্তমানে সাড়ে ৬ লাখ মানুষ পানিবন্দী। মঙ্গলবার পর্যন্ত ছিলেন প্রায় সাড়ে ৭ লাখ। নদীগুলোর পানি এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিলেটে ২৭ মে দেখা দেয় বন্যা। ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিশ্বনাথ, ওসমানীনগর, বালাগঞ্জসহ আরও কয়েকটি উপজেলায় দেখা দেয় বন্যা। শুক্র ও শনিবার বৃষ্টি এবং উজানের ঢল থামায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছিলো। তবে রবিবার থেকে ফের সিলেটে ভারি বৃষ্টি শুরু হওয়ায় বেড়ে যায় নদীর পানি। বর্তমানে ১০টি উপজেলায় রয়েছে বন্যার পানি। তবে উপজেলাগুলোতেও উন্নতি হচ্ছে পরিস্থিতির।  

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে সিলেট মহানগরের ১৩ ওয়ার্ডে বন্যার পানি রয়েছে। শুরুতে অন্তত ৩০টি ওয়ার্ড পানিবন্দী ছিলো। এখানে ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বুধবারও এসব কেন্দ্রে ৪ হাজার মানুষ আশ্রয়ে ছিলেন।

 সিলেট জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সিলেটে ভারী বৃষ্টির কারণে গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও বিশ্বনাথ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা বিস্তৃতি ঘটেছে। তবে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকাসহ জেলার অন্যান্য উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি দিকে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বুধবার দুপুর ১২টায় কানাইঘাট উপজেলায় সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৫১ সে.মি., জকিগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ১৮ সে.মি. ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় বিপদসীমার ৪৩ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সিলেট মহানগর এলাকায় সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৬ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আগের তুলনায় এটি কম। আগামী কয়েকদিন ভারি বর্ষণ না হলে সুরমা নদীর পানি আরও কমে যাবে।

 

মন্তব্য করুন